
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। সোমবার সংগঠনের সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি ও সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার রাতের এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম ও কর্মী বিশাল চক্রবর্তী। তারা রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, রড ও বেসবল ব্যাট নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং অনেকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেন। এই ঘটনায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবানি, দৈনিক আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজুসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
ডুজা নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অবিলম্বে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব পালন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তারা উল্লেখ করেন, গত ২৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহবাগ থানার ভেতরেও সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পার হওয়ার পরও কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এছাড়া শাহবাগ থানা পুলিশও ওই ঘটনায় কোনো মামলা গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেছেন সমিতির নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দীর্ঘসূত্রতা সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই পরবর্তী সময়ে নতুন বাংলাদেশের কাছে মানুষের যে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন প্রত্যাশা, তা পূরণে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘাতের সময় সাংবাদিকদের ওপর প্রতিনিয়ত হামলা, হুমকি এবং দায়িত্ব পালনে বাধার অভিযোগ আসছে। এসব ঘটনায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছে ডুজা। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি আরও বাড়ে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.