
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। শুক্রবার দুপুরে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। যাদের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন—রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং রাকসু শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম এবং কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর অধিকতর তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, শরীফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য থেকে। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই মন্তব্যে রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন। বিপরীতে রাকিবুলের দাবি, আহসান হাবীব তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। এই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার জেরে গত ৪ অক্টোবর শহীদ পরিবহন মার্কেটে তারা উভয়ই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে দুজনই সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেন। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়।
ঘটনার দিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন। ওই সময় রাকসু জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে এক পোস্টে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। এরপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রড, পাইপ ও চাপাতিসহ শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে জড়ো হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশের পর আরিফুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ফেসবুকে মন্তব্য করাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অথচ ছাত্রদল অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, হামলার দিন তাকে না পেয়ে তার কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে এবং সাংবাদিকদের নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি দাবি করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল। সালাউদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তার কাউন্টার হিসেবে একটা পোস্ট দিয়েছি। আমাকে না পেয়ে আমার রুম ভাঙচুর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আরিফুল আরও যোগ করেন, এই ঘটনায় উল্টো তার ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল রাবি প্রশাসন। কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ ও প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.