
ইরানে শীতকালীন সম্ভাব্য গ্যাসসংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে অন্তত ১০ শতাংশ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আসন্ন শীতের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে জাতীয় পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি নাগরিককে অন্তত ১০ শতাংশ গ্যাস সাশ্রয় করতে হবে।
গালিবাফ ঘোষণা দিয়েছেন যে, যারা গ্যাস সাশ্রয় করবেন, তাদের প্রণোদনা হিসেবে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। সাশ্রয়কৃত গ্যাসের পরিমাণের ভিত্তিতে এই অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ গ্যাস সাশ্রয়ের সুফল সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যে পরিমাণ গ্যাসই সাশ্রয় করা হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার সাশ্রয়ের অনুপাতে অর্থ পাবেন।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরান দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে ঘরবাড়ি উষ্ণ রাখার প্রয়োজনে গ্যাসের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। দেশটির উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায়ই হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শীতকালে ঘরবাড়ি গরম রাখার ব্যবস্থা ও অন্যান্য কাজে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের চাহিদা তৈরি হয়।
তেহরানের ভাষ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে শুরু হওয়া সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির দাবি, গত ৪০ দিন ধরে চলমান এই যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিশোধনাগারগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে, যা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস পরিশোধনাগারেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে দেশটি।





