২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুধু ঘর নয়, নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Published: October 5, 2026, 1:39 pm

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, টেকসই আবাসনের ধারণা কোনো নির্দিষ্ট ভবন বা বাসস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন, সুশৃঙ্খল গণপরিবহন, ভালো সড়কব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ—সবকিছুর সমন্বয়েই একটি বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন যে, শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং নিরাপদ ও টেকসই জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ ও সরকারি পরিকল্পনা

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, দেশের শহর, বন্দর ও নগরকেন্দ্রগুলোতে জনসংখ্যার চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই বাস্তবতায় সর্বজনীন আবাসন ও টেকসই নগরায়ণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শহরগুলোতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, সবার জন্য বাসযোগ্য ও পরিবেশসম্মত আবাসন নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মানুষের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা ও নাগরিক সুবিধাগুলোও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই নাগরিকদের জন্য শুধু বাসস্থান তৈরি নয়, সেই বাসস্থানকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তারপরও সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিকেন্দ্রীকরণ

পরিকল্পিত নগরায়ণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১১ নম্বর লক্ষ্য অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও সহনশীল নগর গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। শহরের ওপর বাড়তি জনসংখ্যার চাপ কমাতে রাজধানী ও বড় শহরগুলোর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী করার বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি ঢাকার চারপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবাসন পরিকল্পনায় পরিবেশ সুরক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে তুলতে হবে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারি পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলায় আবাসন, নির্মাণ খাত, ব্যাংকিং সেবা, রাজউক, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৫৭টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের মুখে রয়েছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পরিকল্পনার কথা বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন বলে স্বীকার করেন তিনি।