
হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ভারতের করা ১৯১ রান স্বাগতিকেরা মাত্র ১৮ ওভারে পেরিয়ে যায়, হাতে ছিল ১২টি বল। প্রথম তিন ম্যাচে জয়লাভ করায় ভারত আগেভাগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল, তবে শেষ দুই ম্যাচ জিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষ করল শক্তিশালী ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে। বল হাতে এই পেসারের তোপে দিশেহারা ভারতের ব্যাটসম্যানরা। ভারতের ১৯১ রান ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩১ রান করেছিলেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর রান ছিল ৩১৬। বাউন্ডারিতে তাঁর ক্যাচ দুইবারের চেষ্টায় ধরলেও ফিন অ্যালেনের পা মাটিতে লেগে যাওয়ায় সেটি ছক্কা হয়ে যায়। ওভারটিতে ২৭ রান তোলে ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর ছড়ি ঘোরান অ্যাডাম মিলনে। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। রান আটকে রাখার পাশাপাশি তুলে নেন ৪ উইকেট।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ভারত।
১৯ রানের মাথায় দলের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে সাজঘরে ফেরান মিলনে। এরপর ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ারের জুটি দলকে টেনে তোলে। সপ্তম ওভারে ৩০ রানে জীবন পান ইশান। তিনি ৩২ বলে ৫টি করে চার ও ছক্কায় ৬১ রান করে বিদায় নেন। এই ইনিংসের সুবাদে এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড এখন ইশানের দখলে। বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়ার হার, আফ্রিকার জয়: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হিসাব–নিকাশ কতটা বদলাল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৮ বলে ফিফটি করেন কিষান। অন্য প্রান্তে মাইকেল ব্রেসওয়েলের এক ওভারে টানা ছক্কা, চার ও ছক্কা মারেন শ্রেয়াস।
শ্রেয়াস আইয়ার ২২ বলে ফিফটি পূর্ণ করার ঠিক পরের বলেই আউট হন, তাঁর সংগ্রহ ছিল ৫০ রান। তিলক বর্মা ৫ রানে জীবন পাওয়ার পর খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষ দিকে নমন ধির ৩৩ ও নিতিশ কুমার রেড্ডির ২২ রানের কল্যাণে ভারত ১৯১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত থামতে হয় তাঁকে। কিন্তু স্মিথের ‘ফ্রন্ট ফুট নো বল’ হওয়ায় ৫ রানে জীবন পান তিলক।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ফিন অ্যালেনকে হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে টিম সাইফার্ট ও ড্যারিল মিচেল দ্রুত ম্যাচের হাল ধরেন। পাওয়ার প্লে শেষে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৯ রান। মিচেল ২৯ রান করে বরুন চক্রবর্তীর শিকার হলে ৭৩ রানের জুটি ভাঙে। রান তাড়ায় ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে জ্বলে ওঠেন টিম সাইফার্ট। অন্যদিকে ফিলিপসও দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ২৯ বলে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান জ্যাকবসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটিতে করেন ২৬ রান।
দীর্ঘদিন রানের খোঁজে থাকা টিম সাইফার্ট আজ ৫০ বলে ৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে নিতিশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হন তিনি। শ্রেয়াসের সঙ্গে তাঁর ৪৩ বলে ৯৩ রানের জুটি ভাঙে। এমন হারের দায় কি শুধুই নাজমুল–লিটনদের।
ম্যাচ জয়ের নায়ক ছিলেন গ্লেন ফিলিপস। ৩৮ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছক্কা। সিরিজের পাঁচ ম্যাচে তিনটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরিসহ মোট ৩৪১ রান করে ফিলিপস সিরিজসেরা হয়েছেন, যা দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তবে গ্লেন ফিলিপসের আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসে জয় পেতে সমস্যা হয়নি নিউজিল্যান্ডের। এক সিরিজে ৩০০-এর বেশি রান আছে আর কেবল মোহাম্মদ রিজওয়ানের।
ফিলিপস ও সাইফার্টের ৮৬ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডের জয়ের পথ সহজ করে দেয়। শেষে ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবস মিলে দলকে জয় এনে দেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আগামী বুধবার থেকে শুরু হবে। ‘জম্বির মতো ডাইভ দিতাম, প্রতি রাতে কাঁদতাম’: আঙুল ভেঙেও যেভাবে আর্জেন্টিনার জন্য লড়েছিলেন মার্তিনেজ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.