
কার্ডিফে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে পাত্তাই দেয়নি স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৪৬ রানের মামুলি লক্ষ্যমাত্রা টপকাতে স্বাগতিকদের খরচ করতে হয়েছে মাত্র ১২.১ ওভার। সিরিজের জয়সূচক এই ম্যাচে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছে পুরো দল। ব্যাট হাতে টম ব্যান্টন ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস উপহার দিয়েছেন, যেখানে ছিল চারটি ছক্কার মার। ৪৭ বল হাতে রেখে এই দাপুটে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ইংলিশরা। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন লিয়াম ডসন, যিনি ৩২ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি উইকেট।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ হয়েছিল লঙ্কানদের। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও তাঁর সঙ্গী প্রথম পাঁচ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই সংগ্রহ করেন ৫৫ রান। তবে পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে লিয়াম ডসন জোড়া আঘাত হানলে বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে। এক পর্যায়ে ৯০ রানের মধ্যেই ৯ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল সফরকারীরা। শেষ চার ওভারে মাত্র ১২ রান যোগ করতে পেরে শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১৪৫ রানে। লঙ্কানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছেন নিশাঙ্কা। এছাড়া অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা ৩১ এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২৭ রান করেন। ইংলিশ বোলারদের মধ্যে জেমি ওভারটন ২টি উইকেট নিয়েছেন। সনি বেকার ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ১৯তম ওভারে মেডেন বোলিং করে নিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের ওপেনার জস বাটলার ও অ্যানিউরিন ডোনাল্ড দ্রুত গতিতে রান তোলায় মনোযোগী হন। মাত্র ৪.৩ ওভারেই তারা ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে তোলেন। যদিও বাটলার ৩০ এবং ডোনাল্ড ২১ রানে বিদায় নেন, তবে দলের রানের গতিতে ভাটা পড়েনি। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মাত্র ৮ বলে তিন ছক্কায় ২৩ রান করে জয়ের পথ আরও সহজ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ব্যান্টনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কোনো বিপত্তি ছাড়াই ইংল্যান্ড জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সাফল্য ঈর্ষণীয়। গত গ্রীষ্মের শুরু থেকে খেলা সর্বশেষ ২৫টি পূর্ণাঙ্গ টি-টোয়েন্টির ২২টিতেই জয় পেয়েছে দলটি, যা জয়ের ৮৮ শতাংশ হার নিশ্চিত করে। তুলনামূলকভাবে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এর পরের অবস্থানে থাকা ভারতের জয়ের হার ৭৩ শতাংশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শনিবার, ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মনে হচ্ছিল বড় সংগ্রহের পথেই এগোচ্ছে সফরকারীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সনি বেকারও আবার দেখিয়েছেন তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দক্ষতা।



