১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবার মত নিয়ে সংবিধান সংশোধনে আগ্রহী সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: September 29, 2026, 8:44 pm

দেশের সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে আলোচনার দরজা সবসময় উন্মুক্ত রেখেছে এবং সবার মতামতের ভিত্তিতেই সংবিধানে পরিবর্তন আনতে চায়। এরপরে সেই প্রতিবেদন ভিত্তিতে বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে। সংসদে হবে, সংসদের বাইরেও মতামত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আলোচনার অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গেও বসার পরিকল্পনা রয়েছে কমিটির। এছাড়া বিগত ১৭ বছরে যারা গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, সেই ভুক্তভোগী পরিবার এবং জীবিত ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তারা আলোচনার টেবিলে বসবেন। পরবর্তীতে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে খসড়া পর্যালোচনার বিষয়টিও প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেই বিবেচনায় তারা বলেছেন, এটা পুনর্বিবেচনা করা যায় কিনা। আমরা আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম দেন, অন্তর্ভুক্ত হন এবং আলোচনায় আসেন। আর জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের সাথে বসব। এভাবে আমরা প্রায় সকল শ্রেণিপেশার ব্যক্তিদের সাথে, তাদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে সমাজের একটা চিত্র, মতামত, পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করব।

বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা মহল থেকে প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়েও আমন্ত্রিত অতিথিরা নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যারা সভায় তাদের বক্তব্য পেশ করেছেন, সেসব বিষয় রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও এর রূপরেখা নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানান। সরকারের পক্ষ থেকে একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।