
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়ার বীরেশ দিঘিতে আজ শুক্রবার শুরু হয়েছে শৌখিন মৎস্য শিকারিদের অংশগ্রহণে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। সকাল সোয়া ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা চলবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। প্রায় পৌনে তিন একর আয়তনের এই দিঘিটি সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প নামের একটি সমিতি ৯০ লাখ টাকায় বন্ধক নিয়েছে এবং তারাই নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। সমিতির সভাপতি আলী মিয়ার মতে, বছরের বিভিন্ন সময়ে এমন আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শৌখিন শিকারিরা যোগ দেন। চলতি বছরে এটি তাদের সপ্তম আয়োজন। আয়োজকেরা জানান, শিকারিরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে এসেছেন। সমিতির সভাপতি আলী মিয়া বলেন, প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি টিকেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬ হাজার টাকা। মোট ২৬ জন শিকারি টিকেট কিনে অংশ নিচ্ছেন, যার ফলে আয়োজকদের সংগ্রহ হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। দিঘির চারপাশে লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ২৬টি মাচায় বসে শিকারিরা মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রত্যেক প্রতিযোগীর জন্য আনুষঙ্গিক আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয় এবং অনেকে ভাড়াটে শিকারি নিয়োগ করেন, যাদের ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ২৬ হাজার টাকা করে টিকিট কিনেছেন ২৬ জন শিকারি। মাঝেমধ্যে মাচা থেকে ‘বড় মাছ, বড় মাছ’ বলে হইহুল্লোড় করে উঠছেন শিকারি ও তাঁদের লোকজন। আসনের মালিকদের অনেকে ভাড়া করা শিকারি এনেছেন।
এই প্রতিযোগিতায় মোট ৬টি পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রথম পুরস্কার ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় ১ লাখ টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পুরস্কারের জন্য যথাক্রমে ৪৫, ৪০ ও ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। যদি কোনো শিকারি প্রথম তিনটি পুরস্কারই জিতে নেন, তবে তিনি মোট সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের দাবি, অতীতে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।
দিঘিতে ৫ থেকে ৮ কেজি ওজনের রুই ও কাতলা মাছের মজুদ রয়েছে। সকাল ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ইলিয়াছ হোসেন ৪ কেজি ৬৭৫ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরে এখন পর্যন্ত শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এর চেয়ে বড় কোনো মাছ ধরা পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। মাছ ধরতে এসে শিকারি ও তাদের সঙ্গীদের আনন্দ ও হইহুল্লোড় পরিবেশকে মুখর করে তুলেছে, আর প্রতিযোগিতা দেখতে দিঘির পাড়ে স্থানীয় দর্শকদেরও ব্যাপক ভিড় জমেছে। কেউ মাছের খাবার তৈরি করছেন, কেউ দিঘিতে বড়শি ফেলছেন।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.