২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বজনীন আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

Published: October 5, 2026, 12:08 pm

নাগরিকদের জন্য সর্বজনীন আবাসন অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সোমবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, আরো অনেকগুলো বিষয় এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থানই নয় বরং সেটিকে নিরাপদ এবং টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি। সকলের জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ, মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শহর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি বাড়ছে। বর্তমানে ঢাকা শহর অতিরিক্ত জনবোঝাই অবস্থায় রয়েছে এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোর চিত্রও প্রায় একই। এই প্রেক্ষাপটে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, আবাসন মানে কেবল একটি ঘর নয়; এর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য এ ধরনের পরিবেশ অপরিহার্য। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভার পপুলেটেড। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েকগুন বেশি মানুষের বসবাস। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়গুলো বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, জনবহুল বাংলাদেশে সবার জন্য মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা এবং বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।

পরিকল্পিত নগরায়ণের অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলা ও সিটি কর্পোরেশনের জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো টেকসই নগরায়ণের মাধ্যমে জাতিসংঘের এসডিজি ১১ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর ফলে একদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে।