
দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, গত ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনের পরও দেশের আনাচে-কানাচে সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্টরা এখনো বিভিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে। তাদের অবস্থানের কারণে দেশ এখনো হুমকির মুখে আছে এবং এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সাংস্কৃতিক সক্ষমতা ও যোগ্যতা অর্জন করা অপরিহার্য। চূড়ান্ত বিপ্লবের বিজয় সুনিশ্চিত করতে হলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বিজয় অর্জন করতে হবে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা মিলনায়তনে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত কেরাত ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বুলবুল। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি মোশাররফ হোসেন, আর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহবুব মুকুল। অনুষ্ঠানে শিল্পী সাইফুল্লাহ মানছুর তার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, মহান আল্লাহ মানুষের সংস্কৃতির তৃষ্ণা মিটিয়ে দিয়েছেন। তাই রবের নির্দেশিত সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে এবং তা যেন কোনোভাবেই কলুষিত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে শিল্পী তাফাজ্জল হোসেন খান নাতে রাসুল লেখা ও গাওয়ার ক্ষেত্রে শিরকের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শানে গজল বা নাত লিখতে ও গাইতে গিয়ে অনেক সময় অসাবধানতাবশত মানুষ শিরক করে বসে। তাই সুস্থ ও শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চায় নাত পরিবেশনের সময় অধিক সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. শামসুল আলম, প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, কবি ও সম্পাদক জাকির আবু জাফর, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এবং ড. মোবারক হোসাইনসহ সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটি জানায়, নগরীর ১৩টি জোনের মাধ্যমে ৪টি আলাদা গ্রুপে কয়েক হাজার প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। বাছাইপর্ব শেষে চূড়ান্ত রাউন্ডে মোট ২২৪ জন প্রতিযোগীকে অংশ নিতে দেখা যায়। কেরাত ও হামদ-নাত—এই দুটি বিষয়ের প্রতিটিতে ৪টি করে গ্রুপ থেকে মোট ৮০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ী প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। উল্লেখ্য, ১৩টি জোনের মাধ্যমে ৪টি গ্রুপে কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বাছাই করে মোট ২২৪ জনকে নিয়ে চূড়ান্ত রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়।





