
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সার না পাওয়ার প্রতিবাদে ও ডিলারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সারের অপসংস্থান, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে বাধ্য হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। সার ছাড়া জমিতে ঠিকমতো আবাদ করা যায় না।
মঙ্গলবার সকালে পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বিক্ষোভ চলে, যার ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কৃষকদের অভিযোগ, সার ডিলারের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকেন না। তার পরিবর্তে জাদু মেম্বার ও ভুট্টু নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণের মূল দায়িত্বে রয়েছেন। ডিলারের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের লোকদের ১০ থেকে ১২ বস্তা করে সার গোপনে দিয়ে দিচ্ছে, অথচ সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচলে তীব্র বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
ক্ষুব্ধ কৃষক একরামুল জানান, চাষাবাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার না পেলে কৃষকদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে কিনতে রাজি থাকলেও, ডিলারের সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। একই অভিযোগ তুলে চরাঞ্চলের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে খোলাবাজারে তা সরবরাহ করা উচিত। এ সময় তিনি অবিলম্বে কালোবাজারি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল বলেন, ‘যে সময় সারের প্রয়োজন, সে সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কৃষক ও তাদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে। প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি, তবুও যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি। চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, ‘ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সরবরাহ চাই।
ভুট্টা চাষি আজিজুল ইসলাম জানান, আগাম ভুট্টা চাষের মৌসুমে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন বিপর্যয় ঘটবে এবং ফসলের রং লাল হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। সংসার চালানোর মূল ভরসা এই চাষাবাদ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। কৃষকদের এই যৌক্তিক দাবির মুখে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, সরকারিভাবে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ছয়টি ওয়ার্ডে বর্তমান বিতরণ কার্যক্রম চলমান এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে তা শেষ হবে। কোনো ধরণের কালোবাজারির সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অবরোধের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ রয়েছে এবং কার্ডধারী সকল কৃষকই সার পাবেন। কৃষকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কার্ড যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে সঠিকভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করা হবে। কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে কৃষকরা সাময়িকভাবে সড়ক থেকে সরে আসেন এবং কার্ডগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.