
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রিয়াদে অতিরিক্ত সেনা কর্মকর্তা, কারিগরি দল ও আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানো হবে। মঙ্গলবার লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন তুর্কি প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।
এর আগে গত সোমবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব এক যৌথ বিবৃতিতে মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা সমঝোতা অবিলম্বে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় কৌশলগতভাবে সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত সৌদি ভূখণ্ডে মোতায়েন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় গত বছর থেকেই দেশটিতে কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন রেখেছে আঙ্কারা। মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রকল্পটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।’।
তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এবার নতুন করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, কারিগরি কর্মী ও জরুরি সাড়াদানকারী দলের পাশাপাশি যুদ্ধসক্ষম সৈন্য পাঠানো হচ্ছে। ২০১০ সালের দ্বিপক্ষীয় সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় সীমিতসংখ্যক সেনা পাঠানো সম্ভব হলেও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের জন্য তুর্কি সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। আঙ্কারা এই সামরিক অনুমোদন বিল ও মক্কা চুক্তি অনুমোদনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটিও আমাদের অনুমোদন করতে হবে। তবে আমরা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিলটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।’।
দ্বিতীয় আরেক কর্মকর্তা জানান, কেবল প্রতিরক্ষামূলক সুরক্ষার অংশ হিসেবে একটি যৌথ কমান্ড ঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েন করা হবে। এই প্রকল্পের কারিগরি প্রস্তুতি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই চলেছে। পার্লামেন্টারি সেশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পরই অভিজ্ঞ পাইলট, যুদ্ধবিমান এবং বিশেষ বাহিনীর একটি সীমাবদ্ধ দলকে পাঠানো হতে পারে। তবে ঠিক কতজন সদস্য ও কতগুলো বিমান পাঠানো হচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। তুর্কি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপর কোনো পরিকল্পনা আঙ্কারার নেই এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তুর্কি সামরিক বাহিনী প্রধানত সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পশ্চিমাংশ, রাজধানী রিয়াদ এবং পবিত্র শহরগুলোর সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকবে। তুর্কি সেনারা সেখানে সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় ঘাঁটিতে কাজ করবে, পাশাপাশি তাদের নিজস্ব পৃথক কমান্ড ঘাঁটিও থাকবে। প্রেসিডেন্সির উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ও শিক্ষাবিদ মুরাত ইয়েসিলতাশ জানান, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এই সেনা মোতায়েনের বিলটি তোলা হতে পারে। রিয়াদ, পবিত্র দুই শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন সুরক্ষা। পাশাপাশি তারা রিয়াদ ও দেশটির পবিত্র শহরগুলোর প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে।
তবে মুরাত ইয়েসিলতাশের মতে, তুর্কি সহায়তার পরিসর মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে এই নিয়ন্ত্রিত অংশগ্রহণের ফলে আঙ্কারা রিয়াদের নিরাপত্তায় সরাসরি যুক্ত থেকে ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হবে। তিনি লিখেছেন, ‘এই পদ্ধতির মাধ্যমে তুরস্ক রিয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। একই সঙ্গে তুরস্ক যে ঝুঁকি নেবে এবং সামরিকভাবে যতটা সম্পৃক্ত হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।’।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.