
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। সফরকালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের বেশ কিছু জাহাজ আটক থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুদ্ধের এই পরিস্থিতি সমাধান না হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
এর আগে, বুধবার সকালে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক উচ্চ পর্যায় কমিটির বৈঠকে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি প্রস্তাবনা পেশ করেন। এই সংকট সমাধানের এখনই উপযুক্ত সময় বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রস্তাবগুলো নিচে তুলে ধরা হলো
- আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বনেতাদের প্রভাব কাজে লাগাতে হবে।
- রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের সব বেসামরিক নাগরিকের ওপর সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নিজ ভূমিতে তাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ফেরার পরিবেশ পায়।
- রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা বজায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর স্বার্থের দিকেও নজর দিতে হবে যাতে তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
- টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে গাম্বিয়ার নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চলমান বিচারিক প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশ পূর্ণ সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
- অঞ্চলটির অস্থিতিশীলতা উসকে দেয়া মাদক ব্যবসা, মানব পাচার, ডিজিটাল প্রতারণা এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কঠোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া, সফরসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক ত্যাগের আগে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে এক প্রাতরাশ সভায় অংশ নেবেন। একইদিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও তার আলোচনার কথা রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করছে। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর কাজ চলছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এককভাবে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি প্যারিস চুক্তির আলোকে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সমাধান হওয়ার পর যুদ্ধের কারণে আমাদের যে জাহাজগুলো আটকে আছে, সেগুলো নিরাপদে দেশে আসতে পারে- এ ব্যাপারে উনারা যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ মনে করে যে, জাতিসংঘ একটি নিরপেক্ষ জায়গা- এই নিরপেক্ষ জায়গায় ইরানের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখানে আমাদের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রায় ৮ মিলিয়ন প্রবাসী ওয়ার্কার্স মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখানে যদি সিচুয়েশনটা পিসফুল একটা রেজুলেশনের দিকে না যায়; এই কনফ্লিক্টের ইমপ্যাক্ট তাহলে আমাদের দেশেও পড়বে, রেমিট্যান্সের ওপর পড়বে- এটা আমাদের একটা ডিপ কনসার্ন।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এখন সহমর্মিতা থেকে সংকটের মূল কারণ ও তার সমাধান খোঁজার পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে, প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার সময় এসেছে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটানোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।





