
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে ধারাবাহিক হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ০৬ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৫১ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৭৯ ডলারে।
বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের অষ্টম মাসে এসে অক্টোবর মাসে এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ও হামলার মাত্রা ব্যাপক হারে বেড়েছে। বুধবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, কাতারের উত্তরাঞ্চলে একটি তেলবাহী জাহাজে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যাতে প্রাণহানির পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বুধবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানায়, এই হামলায় কিছু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, আহতও হয়েছে বেশি কিছু মানুষ।
এর আগে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যার ফলে সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমেছিল। তবে এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্যবাজার কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনস মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত বাজারে খুব একটা দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি ফেরাতে পারছে না। হাইনসের মতে, আইইএর এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর সময়ের পুরনো পরিকল্পনারই অংশ হতে পারে এবং এটি কোনো নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করছে না। রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ায় বুধবার আইইএ কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার কার্যক্রমে গতি আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মজুতের তথ্যও বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। গত ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ১৭ লাখ ব্যারেল হ্রাসের। পাশাপাশি ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুতও ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে ঠেকেছে, যা গত পাঁচ বছরের গড় মজুতের তুলনায় বেশ কম।
হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঝুঁকি বাড়ায় জাহাজগুলোর পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নাবিকদের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও প্রকট হয়েছে। অতীতেও এই ধরনের হামলার ফলে পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার নজির রয়েছে। বর্তমানে বিকল্প কোনো পথ না থাকায় উৎপাদক দেশগুলো ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তবে সরবরাহের এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামকে উর্ধ্বমুখী রাখছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.