২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা দক্ষিণ কোরিয়ার

Published: November 5, 2026, 12:05 pm

হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর জলদস্যুবিরোধী ইউনিটের কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছে সিউল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনার কথা জানায়, যা স্থানীয় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএসের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

দেশটির ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ‘চেওংহে’ নামের জলদস্যুবিরোধী ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। ফলে এই ইউনিটটির মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে। ২০০৯ সাল থেকে সোমালিয়ার এডেন উপসাগরীয় এলাকায় জলদস্যু দমনের দায়িত্ব পালন করে আসছে এই ইউনিটটি। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পরিস্থিতিতেও তাদের মোতায়েন করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর দেশটির জাতীয় পরিষদের অনুমোদনের ভিত্তিতেই এই ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই ইউনিটের কার্যক্রমের আওতা ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বাড়ানো হবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার বা ৪০৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বে অবস্থিত। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনা এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবটি জাতীয় পরিষদে তোলা হবে।

সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে সামরিক সরঞ্জাম শক্তিশালী করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, সমুদ্র তলদেশে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণের উপযোগী চালকবিহীন সামরিক সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে দক্ষ একটি বিশেষ দল।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালি বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই সিউল ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি পর্যালোচনার মধ্যে ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো বিদেশি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার মতো বা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সেখানে সেনা পাঠানো হবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য মূলত জলদস্যু দমন ও নিজেদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।