
সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল ও গ্যাস স্থাপনায় প্রাণঘাতী হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক এসব হামলার পর তিনি সাফ জানিয়েছেন, সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও হবে ‘সমানভাবে কঠোর’। রিয়াদে আয়োজিত বিশ্ব জ্বালানি কংগ্রেসে (ডব্লিউপিসি) প্রিন্স আবদুল আজিজ বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং এর প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া পদক্ষেপও হবে সমানভাবে গুরুতর। আমাদের জবাবও সমানভাবে গুরুতর হতে হবে।’। সোমবার রাতে আবারও রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রিয়াদের বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের একটি সম্মেলনকেন্দ্রে রোববার বিশ্ব জ্বালানি কংগ্রেস শুরু হয়।
গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চালানো হুথিদের হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। রোববার রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর আগের দিন একই বিমানবন্দরের আরেকটি টার্মিনালে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত হন। গত এক সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরটি চারবার হামলার শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের একটি স্থাপনা ও মাটিতে থাকা একটি বিমানে দুটি হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একজন পাইলট ছিলেন। শনিবার টার্মিনাল-৩-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার সৌদি, দুজন বাংলাদেশি, একজন মার্কিন, একজন মিসরীয় ও একজন জর্ডানীয় নাগরিক নিহত হন। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলসহ বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারপন্থী বাহিনীকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান সহায়তা দিচ্ছে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জিএসিএ) তথ্য অনুযায়ী, রোববার একটি নিক্ষিপ্ত বস্তু টার্মিনাল-৪-এ আঘাত হানলে পাকিস্তানের এক বাসিন্দা নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা হয়। তবে সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে কাতার এয়ারওয়েজ ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামে তাদের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। এদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি মঙ্গলবার দাবি করেছেন, তারা সৌদি আরবের একটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছেন। বিপরীতে সৌদি জোটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ড্রোন ও খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের কথাও জানিয়েছে জোট বাহিনী। তবে হুথি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সানায় সৌদি বিমান হামলায় এক শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
বিশ্ব জ্বালানি কংগ্রেসের উদ্বোধনী বক্তব্যে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী হামলার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সম্মেলনে অংশ নেওয়া নির্বাহী ও নীতিনির্ধারকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরব একটি নিরাপদ দেশ এবং অতিথিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে জ্বালানির নিরাপত্তাকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, সৌদিরা নির্ভীক ও লড়াকু জাতি এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হুথিরা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আগ্রাসন এবং বন্দর ও বিমানবন্দরে অবরোধের জবাবে এসব হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে হামলা অব্যাহত রাখবে এবং 'অবরোধের জবাবে অবরোধ' নীতি অনুসরণ করবে। আপনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই।’।
শনিবারের হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের ওপর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, সেই বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। ইরান পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হুথিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ পুনরায় অস্বীকার করেছে। ইয়েমেনে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ ২০১৫ সালে সৌদি জোটের হস্তক্ষেপের পর থেকে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সৌদি সরকারের দাবি, হুথিদের এসব কর্মকাণ্ড ইরানকে সুবিধা দেওয়ার একটি অংশ মাত্র। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদ ও দাম্মামসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনগুলোতে সৌদি আরবের কৌশলগত পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে। হুথিদের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিরতিতে হামলার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে এবং সৌদি জোট তা প্রতিরোধের দাবি করছে, যা সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.