
বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার গানের জয়যাত্রা এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
তবে বিটিএস কিংবা ব্ল্যাকপিংকের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের উত্থানের অনেক আগে থেকেই যিনি এই পথ প্রশস্ত করেছিলেন, তিনি হলেন বোয়া।
আজ ৫ নভেম্বর ৪০ বছরে পা রাখলেন দক্ষিণ কোরিয়ার এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী। তাঁর পুরো নাম কোওন বোয়া। ১৯৮৬ সালের ৫ নভেম্বর সিউলে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী দীর্ঘ ২৬ বছরের ক্যারিয়ারে নিজের অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের কে-পপ তারকাদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে সংগীতজগতে অভিষেক হয় বোয়ার। ১৯৯৮ সালে এসএম এন্টারটেইনমেন্টের নজরে আসার পর কঠোর প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ২০০০ সালের ২৫ আগস্ট ‘আইডি; পিস বি’ অ্যালবামের মাধ্যমে তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। জাপানি সংগীতবাজারেও তিনি দ্রুত নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। ২০০১ সালে জাপানি ভাষায় গান প্রকাশের পর ২০০২ সালে ‘লিসেন টু মাই হার্ট’ অ্যালবামটি ওরিকন চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নেয়। বিক্রির বিচারে এটি মিলিয়ন সেলারের স্বীকৃতি পায়। ২০০১ সালের ৩০ মে ‘আইডি; পিস বি’ গানের জাপানি সংস্করণ দিয়ে জাপানের সংগীতবাজারে অভিষেক হয় বোয়ার।
২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘ভ্যালেন্তি’ অ্যালবামটি জাপানে প্রায় ১২ লাখ কপি বিক্রি হয়। সেই সময়ে জাপানের স্থানীয় সংগীতশিল্পীদের দাপট থাকলেও বোয়া নিয়মিত জাপানি ভাষা চর্চা ও স্থানীয় শ্রোতাদের রুচি বুঝে গান প্রকাশ করে নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থান তৈরি করেন। ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর তিনি জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ‘কোহাকু উতা গাসেন’-এ অংশ নেন। তাঁর এই সাফল্য পরবর্তী প্রজন্মের কোরিয়ান শিল্পীদের জাপানে প্রবেশের পথ সহজ করে দেয়। বিশেষ করে জাপানের সংগীতবাজারে তাঁর সাফল্য বদলে দিয়েছিল কে-পপের সম্ভাবনার হিসাব। অ্যালবামটির বিক্রি ছাড়ায় ১২ লাখ কপি। ‘বেস্ট অব সোল’ অ্যালবামটিও মিলিয়ন সেলারের স্বীকৃতি পায়। তাঁর সাফল্যের পর অন্য কোরীয় শিল্পীদের জন্যও জাপানের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ে।
জাপানের সীমানা পেরিয়ে বোয়া নজর দিয়েছিলেন পশ্চিমা সংগীতবাজারের দিকেও। ২০০৯ সালের মার্চে তাঁর ইংরেজি ভাষার অ্যালবাম ‘বোয়া’ প্রকাশিত হয়। এটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ১২৭তম স্থানে জায়গা করে নেয়, যা কোনো দক্ষিণ কোরিয়ান শিল্পীর জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। সে সময় কে-পপ আজকের মতো বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ছিল না। ভিন্ন সংগীত সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তিনি যে সাহসী উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা আজ কে-পপ সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। শুরু থেকেই তাঁকে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল প্রতিষ্ঠানটির। অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ চার্টে ১২৭ নম্বরে জায়গা করে নেয়।
কেবল সংগীত নয়, গীতিকার, সুরকার ও প্রযোজক হিসেবেও নিজের মেধা প্রমাণ করেছেন তিনি। ২০২৪ সালে এসএম এন্টারটেইনমেন্টের নতুন গ্রুপ এনসিটি উইশের প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। একই বছর জনপ্রিয় কোরীয় ড্রামা ‘ম্যারি মাই হাজব্যান্ড’-এ অভিনয় করেও ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই তারকা।
দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলা শেষে ২০২৫ সালে সংগীত জীবনের সিলভার জুবিলিতে বোয়া তাঁর ১১তম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘ক্রেজিয়ার’ প্রকাশ করেন। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর এসএম এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ২৫ বছরের পেশাদার সম্পর্কের ইতি ঘটে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বিচ্ছেদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে তিনি নিজের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বাপাল এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.