৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০৬ কোটি টাকার বিল: জিএমসহ চারজন বরখাস্ত

Published: September 30, 2026, 4:33 pm

মাগুরার সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অস্বাভাবিক বিল ইস্যু করার ঘটনা ঘটেছিল। পল্লী বিদ্যুতের আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এই অবিশ্বাস্য বিল তৈরির ঘটনায় জড়িত মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুন সংশোধিত ১ হাজার ৯৬৩ টাকার বিল পরিশোধ করেছেন।

বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মহিতুল ইসলামকে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং বাকি তিনজনকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, মহিতুল ইসলামের স্থলে জেলার মহম্মদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম শাহিন আহসানকে ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতাবশত সিল নম্বর ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসিয়ে ফেলার কারণে এই ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরপরই কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানির পর বিলটি সংশোধন করা হয়।

বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সরাসরি ফোন করেন ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুনকে। ফোনালাপে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কারণে গ্রাহকের মানসিক বিড়ম্বনা ও উদ্বেগের জন্য মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে যেকোনো বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে গ্রাহককে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি। ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আলেয়া খাতুন জানান, মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবে অনেক ফোন আসার কারণে তিনি কিছুটা বিভ্রান্ত বোধ করছিলেন। তিনিও চারজনকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আলেয়া খাতুন দুপুরে বলেন, ‘উনি বেশি কিছু বলেননি। তাই মন্ত্রী নাকি প্রতিমন্ত্রী ফোন করেছিলেন, তা নিয়ে আমি কনফিউজড।’।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।