১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম থেকে দাম্মাম সরাসরি ফ্লাইট ও ২০২৭ সালের হজ

Published: October 2, 2026, 9:26 pm

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং হজযাত্রী পরিবহন প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়ার সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থা, পারস্পরিক এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (এএসএ) এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-দাম্মাম সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ

বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে ফ্লাইট পরিচালনা। মন্ত্রী প্রস্তাব করেন যে, দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই নতুন রুট চালু করা সম্ভব। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

হজ ফ্লাইট ২০২৭ ও স্লট ব্যবস্থাপনা

আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল ২০২৭ সালের হজ ফ্লাইটের সূচি ও স্লট নির্ধারণ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে প্রতিদিন তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে স্লট প্রার্থনা করেছে। এই সূচি দ্রুত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রী সৌদি রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন। এ ছাড়া হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও চার্জের বিষয়টিও বৈঠকে উত্থাপন করা হয়, যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রী পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছেন। গত ১৩ জুলাই এ বিষয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট ও সীমাবদ্ধতা

  • বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
  • চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হলে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
  • সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
  • সৌদি এয়ারলাইনস ফ্লাইঅ্যাডিলের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধ করা হলেও, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতা ও স্লট সীমিত থাকায় তা আপাতত গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন।

প্রতিনিধিদলের সফর ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা

আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি সরেজমিন যাচাই করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরের বিষয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য আকাশপথে যাতায়াত আরও সাশ্রয়ী ও সহজ হবে বলে সরকার মনে করছে।