১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে ভবনের ছাদে আটকে পড়া মানসিক রোগী উদ্ধার

Published: October 2, 2026, 9:57 pm

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরের ডাকবাংলো সড়ক এলাকায় শুক্রবার বিকেলে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৫৫ বছর বয়সী নাসিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর স্বজনরা। চেম্বারে প্রবেশের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান এবং নিকটস্থ একটি তিনতলা ভবনের ছাদে উঠে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। সেখানে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে জুড়ী ফায়ার সার্ভিস ও জুড়ী থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বারবার তাকে নিচে নেমে আসার অনুরোধ জানালে তিনি কোনো সাড়া দেননি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছাদের স্টিলের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনদের জিম্মায় হস্তান্তর করেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফায়ারম্যান কবিরুল ইসলাম জানান, নাসিম উদ্দিনের আচরণে জনমনে ভীতি সৃষ্টি হয়েছিল, যে কারণে বাধ্য হয়ে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করতে হয়। একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে নামতে তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালান। এ দৃশ্য দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। তিনি জুড়ীর সাগরনাল ইউনিয়নের পাতিলাসাঙ্গন গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুর তাকে নিয়ে উপজেলা সদরের একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। এর আগে বছর দেড়েক আগে নাসিম উদ্দিনের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেসময় পরিবারের সবাই বেরিয়ে আসতে পারলেও তিনি শৌচাগারে ঢুকে পড়েছিলেন। তখনও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করেছিলেন। স্বজনেরা জানান, বছর দেড়েক আগে নাসিম উদ্দিনের বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাঈদ এনাম বলেন, নাসিম উদ্দিন হয়তো সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত। এই ধরনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি বুঝে ওঠার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।