১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে হামলার ঘটনায় একজনের মৃত্যু

Published: October 2, 2026, 10:59 pm

নরসিংদী শহরের চৌয়ালা মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে একটি বাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে লোকমান হোসেন পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনের এলাকায় চালানো এই হামলায় আব্দুল্লাহ ওরফে বাবু (২৬) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদিরের ছেলে এবং পেশায় একজন ফুচকা বিক্রেতা ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে অতীতে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এই হামলায় আহত হয়েছেন রুবেল (৩০) ও মিরাজ (২০) নামে আরও দুজন। স্থানীয় তথ্যমতে, আহত রুবেল নিহত আব্দুল্লাহর বড় ভাই। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে আহত মিরাজকে পুলিশ হেফাজতে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় আবু লাল ও হেলাল নামের দুটি পক্ষের মধ্যে এলাকা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাই সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল। পূর্বে তারা একই অপরাধী চক্রের সদস্য হলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। দুই পক্ষই বিভিন্ন সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে পুলিশের ভাষ্যে উঠে এসেছে এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।

শুক্রবার বিকেলের দিকে আবু লাল পক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে ওই বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্য দুজন আহত হন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওসি এ আর এম মামুন জানান, নিহতের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া হামলায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।