
শনিবার ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়াকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তার মতে, আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র প্রকৃতপক্ষেই জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায় ১২ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে এই সংকট নিরসনে মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং অর্থায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংকটটি মিয়ানমারে তৈরি হয়েছে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই সম্পন্ন হতে হবে। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।
বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সাগর আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে পুরো বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সংযুক্ত হওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি খাত ও আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের ওপর তিনি জোর দেন। এ লক্ষ্য অর্জনে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং জলবায়ুসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বাজার উন্মুক্ত করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। পরিশেষে, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি যেন প্রতিটি রাষ্ট্রের সম্মিলিত বিকাশের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, সেই প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসাথে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহন করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে।





