
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রতিষ্ঠানের সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয় এবং মাঠের ভেতর কলাগাছ রোপণ করেন তিনি। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ জানান, এ ঘটনার পর থেকে নলকূপের পানি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু করতে বলেছিলেন।
আজাদ আলীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে টেকনিক্যাল কলেজ খোলার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এছাড়া তার পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়া হয়নি বলে তিনি ক্ষুব্ধ। তবে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে জমি দান করলেও পরবর্তীতে তার আত্মীয়দের চাকরি দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, আজাদ আলীর ছেলের বউকে নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে তিনি মারা যান। এরপর আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে নিয়োগের দাবি জানান, যা কমিটি মেনে নিয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত রেজুলেশনও রয়েছে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীরা ওপরের শ্রেণিতে উঠলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের অনুমোদন নিতে হবে। কমিটি বাধ্য হয়ে সম্মতি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। এরপর ছেলেকে দ্বিতীয় বিবাহ করিয়ে সেই বউকেও মাধ্যমিক শাখার কেরানি পদে চাকরি দিতে বলেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি তৎকালীন দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই দিয়েছিলেন, যা রেজুলেশনে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক জানান, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর বিদ্যালয়টি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি লাভ করে। যদিও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি, তবে প্রাথমিক পর্যায় ও ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস চলছে। বর্তমানে নাম পরিবর্তনের বিষয়কে কেন্দ্র করে আজাদ আলী আদালতে একটি মামলা করেছেন, যা বিচারাধীন। মামলার জের ধরে এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে তিনি বিদ্যালয়ে এই তাণ্ডব চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে তিনি একটি মামলা করেন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, আগামীকাল কর্মস্থলে ফিরে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন এবং বিদ্যালয়টি চালু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না এবং শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিষ্ঠান চালু রাখা হবে। পেছনে যে ঘটনাই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কেউ বন্ধ করতে পারবেন না।





