
টানা চার মাস ধরে মাসিক প্রবাসী আয় তিনশ কোটি ডলারের নিচেই অবস্থান করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগের মাস আগস্টে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সর্বশেষবার প্রবাসী আয় তিনশ কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। টানা ৪ মাস ধরে মাসওয়ারি প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের নিচে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয়ের ধারা ইতিবাচক। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে এ বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, যা আগস্টে বেড়ে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে পৌঁছায়। তবে সেপ্টেম্বর মাসে তা কিছুটা কমে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে আসে।
বিশেষজ্ঞ ও ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় এই ইতিবাচক প্রবাহ বজায় রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে এবং দেশের অর্থনীতির মূল চাকা সচল রাখতে এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। এমনকি ডলারের বাজারেও এর ফলে স্বস্তি বিরাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট তিন হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন। ওই অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে ৬ মাসেই তিনশ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছিল। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো প্রবাসী আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফন দেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি যোগাচ্ছে। দুই বছর আগে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে হঠাৎ করে প্রবাসী আয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়।





