১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুজব ছড়ালেই ব্যবস্থা, পূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতা: পুলিশ সুপার মাসুদ

Published: October 4, 2026, 4:56 pm

আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। রোববার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে জেলার ১৭টি থানার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় এসপি মো. মাসুদ আলম স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এ ধরনের অপতৎপরতায় কাউকে লিপ্ত হতে দেখলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

নিরাপত্তা ও সমন্বয়মূলক নির্দেশাবলি

পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ভক্তদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও তা সার্বক্ষণিক সচল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। আয়োজকদের পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মণ্ডপগুলোতে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পারস্পরিক সমন্বয়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পূজা চলাকালীন মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দমাত্রা ও সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নামাজের সময় ও আজানের পবিত্রতা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

  • পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
  • মো. সেফাউল হোসেন, জেলা কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি চট্টগ্রাম।
  • চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
  • বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি)।
  • জেলার ১৭টি থানার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

পরিশেষে, প্রতিটি মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে অভয় দেওয়া হয়েছে যে, পূজার আনন্দময় পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। সভায় উপস্থিত সকল নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।