
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষিত বেকার প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মূল ফটকের সামনে প্রায় ৫০ জনের বেশি আন্দোলনকারী জড়ো হয়ে অবস্থান গ্রহণ করেন। নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল না আসা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনরত প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের সদস্যসচিব আলিফ হুসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কর্তৃপক্ষ বারবার শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কার্যত কোনো সমাধানের পথ তৈরি হচ্ছে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, কেবল মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে আর আন্দোলন বন্ধ করা হবে না; তারা এখন সুনির্দিষ্ট সমাধান ও কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে চান। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বারবার আশ্বাস ছাড়া কোনো কার্যকর সমাধান পাননি তাঁরা।
এর আগে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের ব্যানারে তারা বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন তারা সমাজসেবা অধিদপ্তরের দিকে রওনা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে বাধ্য হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরেই তারা বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ২৫ দিন অবস্থান করেছিলেন এই গ্র্যাজুয়েটরা।
উল্লেখ্য, আড়ংয়ে ১০০ জন সেলস অ্যাসোসিয়েট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্সের মতো বিষয়গুলো এখন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভাবনার অংশ হলেও, কর্মসংস্থানের অভাবে সরকারি চাকরির অপেক্ষায় থাকা প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটদের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।





