
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তাকে গ্রেপ্তার করে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো এবং রিমান্ডে নেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটি অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছে। এছাড়া কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনারও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জোটের নেতারা। এসব হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টোরোডে বিরোধীদলীয় নেতাদের সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠকে এসব দাবি ও নিন্দা জানানো হয়। বৈঠকে ৩১ অক্টোবর সাত দফা দাবিতে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ছাড়াও জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, আর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বৈঠকের আয়োজনে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া বৈঠকে এনসিপি সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বিডিপি মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতারী এবং খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি নিয়েও আলোচনা করা হয়। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
লংমার্চের বিস্তারিত রুট ও সময়সূচী তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী জনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সকাল ৮টায় পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট, খুলনা ও যশোর হয়ে ঝিনাইদহ দিয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে। রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি লংমার্চের পথে নির্ধারিত পথসভাগুলোর সময়ও ঘোষণা করেন। সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের নাওডোবায় প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে ফকিরহাটের কাটাখালী মোড়, দুপুরে খুলনা মহানগরীর বাবরি চত্বর, ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের চাচড়া মোড় এবং মাগরিবের সময় ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে পথসভাগুলো হবে। সেখান থেকে ৮ টায় পদ্মা সেতু হয়ে মাওয়া সড়ক দিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট, খুলনা, রূপসা ব্রিজ পার হয়ে যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। পথসভাগুলোর সম্ভাব্য স্থান ও সময় জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সকাল ৯ টায় জাজিরা বা শরীয়তপুরের নাওডোবায় প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো দল সংবিধান সংস্কারের এমন দাবি তুলতে পারে না; এটি জুলাই সনদের সঙ্গে বেইমানি। এছাড়া সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণহত্যার অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। একই সঙ্গে প্রশাসন, শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি ও দখলদারি রোধ করার দাবি জানানো হয়।
তিনি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। একইসঙ্গে নেতাকর্মীদের যেকোনো উসকানির মুখে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেন। এছাড়া আগামী ২৫ দিনের মধ্যে ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কগুলো সংস্কারের জন্য সড়ক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।





