
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন, ঠিক এমন পরিস্থিতি ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তৈরি হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি ঢাকা সফর করতেন? সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন এবং সেটি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। কূটনৈতিক চ্যানেলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সংলাপের মাধ্যমে তা সমাধানযোগ্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে অবশ্যই শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ হবে। তবে তার আগে কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড চালানোকে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হুমায়ুন কবিরের মতে, ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা ভারতের দায়িত্ব। যদি ভারত থেকেও কেউ বাংলাদেশে এসে ভারতীয় সরকারের বিরুদ্ধে এমন কাজ করার চেষ্টা করত, তবে বাংলাদেশ তা কোনোভাবেই হতে দিত না।
বর্তমানে নির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতে পলাতক একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ড বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও সরকার আশাবাদী যে এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বাংলাদেশ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে কিছু বৈঠক বাতিল করেছে, যা দুই দেশের স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ। নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ না দিয়ে তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নয়। দেশের জাতীয় স্বার্থ ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েই সরকার ভারতের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে। ভারতের সাথে সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি জানান, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনীতির দরজা সবসময় খোলা রাখা হবে। এছাড়া নভেম্বরে শেষ হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রেও ঢাকার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সরকার অগ্রসর হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।





