২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বিক্ষোভের মুখে ইন্টারনেট বন্ধ

Published: October 9, 2026, 9:17 pm

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে পুলিশ শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ ও কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। টেলিযোগাযোগ আইন ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন-আইডিয়া এবং এমটিএনএলকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জংপুরার কিছু অংশ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় জারি করা নির্দেশে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভের কারণে গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ মোট ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে আসা-যাওয়া করার কথা থাকা ৬০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে যে, কোনো একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব ঘটে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত জুলাই মাসে এনইইটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সিজেপি’র বিক্ষোভের সময়ও ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেবার নিষেধাজ্ঞার আওতা ছিল দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে, যা এবার চার কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে। তখনকার মতো এবারও বিক্ষোভকারীদের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার ও সংবাদ সংগ্রহের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ও পরবর্তীতে আরোপিত কড়াকড়ির ফলে দিল্লির সামগ্রিক জনজীবনে তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিক্ষোভকারীদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে প্রকাশ করতে সমস্যা হয়।