
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগতভাবে একক প্রার্থী দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপি। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভেদ কমিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এই নতুন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৈঠকটি একটানা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কৌশল ও প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। আলোচনার এক পর্যায়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। অনেক জায়গায় একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করতে চাইবেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের গোপন ষড়যন্ত্রের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি মহল নানাভাবে দেশ ও গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে নীলনকশা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে, যা নিয়ে দলটি সতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দিনের নির্বাচনী কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই বিএনপির বর্তমান প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে এই বৈঠকে। এ ছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে ঢাকাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সবাই মিলে যাতে এই উৎসব নির্বিঘ্ন করা যায়, সে ব্যাপারে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে কোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।





