২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

না ফেরার দেশে সোনালী যুগের অভিনেত্রী নাসিমা খান

Published: October 11, 2026, 11:31 pm

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স ও অন্যান্য পারিবারিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন, যার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে পদার্পণের নেপথ্যে ছিল অভিনেতা আনিসের উৎসাহ। সেই সময়ে ঢাকার চলচ্চিত্রাঙ্গনে সুলতানা জামান, রওশন আরা ও সুমিতা দেবীর মতো অভিনেত্রীরা বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন। ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে নাসিমা খানের। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে খ্যাত এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিল। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি, যেখানে তার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও শামীম আরা।

নায়িকা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আনিস। এরপর ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত তিনি সমানতালে বাংলা ও উর্দু ভাষায় নির্মিত অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সূচনালগ্ন ও শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে নাসিমা খান অসামান্য অবদান রেখেছেন।

দীর্ঘদিন রূপালি পর্দা থেকে দূরে থাকার পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় তাকে শেষবারের মতো অভিনয় করতে দেখা যায়। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’ এর মতো সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র।

নাসিমা খানের মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। তাঁর বিদায়ে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সহকর্মী ও ভক্তরা প্রিয় এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।