২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের ৭টি হামলা

Published: October 12, 2026, 11:48 am

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দরে অন্তত সাতটি পৃথক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমানবন্দরগুলোতে চালানো এসব হামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও এপির তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হামলার ধারাবাহিকতায় পুরো সৌদি আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি মানুষ।

সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে ১০ অক্টোবর শনিবার রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এই হামলায় দুই বাংলাদেশি ও চার সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন প্রাণ হারান এবং তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারের হামলায় এক পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক এবং বুধবারের পৃথক আরেকটি হামলায় এক সুদানীয় নাগরিক নিহত ও আটজন আহত হয়েছিলেন। এছাড়া রবিবার ১১ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪ এ হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই দিনে পূর্বাঞ্চলের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়। এই হামলায় ২ জন বাংলাদেশী এবং ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।

সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় বিদ্রোহীরা। গত ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নারী নিহত হন এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন। এর আগের দিন সোমবার সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জাজানের কিং আব্দুল আজিজ ও নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।

রিয়াদ ও দাম্মামের মতো প্রধান আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোতে নজিরবিহীন এসব আক্রমণের ফলে শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের এসব কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে।

এই ধারাবাহিক হামলায় কুমিল্লার একজন মওলানা নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন ফ্রন্টে তুমুল লড়াই চলছে, যার প্রভাব পড়েছে তাইজ শহরের মতো অঞ্চলগুলোতেও।