
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং আমদানির উৎস বহুমুখী করার লক্ষ্যে সরকার নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রিয়াদে অনুষ্ঠিত ১৭তম আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের সাইডলাইনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে সৌদি আরব ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।
সৌদির বিদ্যুৎ-বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানির সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর বৈঠকে ২০৩০ সালের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এলএনজি রূপান্তর টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে সৌদি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সৌদি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। এই খাতে বাংলাদেশে বড় পরিসরে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বর্তমান সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানিসংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি সংকট দূর করতে কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গেও কৌশলগত আলোচনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। বিশ্ববাজার থেকে নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ও কারিগরি যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার মূলত দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে এই বহুমুখী উৎস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় হতাহতদের বিষয়ে শোক প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি নিহত দুই বাংলাদেশির দ্রুত মরদেহ স্বজনদের কাছে ফেরত এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে।





