
নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক উপমন্ত্রী স্টিভেন কোলেট সাভারে অবস্থিত টিম গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানা ফোরএ ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তিনি কারখানার পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও শ্রমিকদের কল্যাণে গৃহীত নানা কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় ডাচ উপমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নেদারল্যান্ডসের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক রাষ্ট্রদূত ওয়াম্পি লিবন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ডাচ রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল, সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলাল হুসেইন, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সেলিম রেজা হাসান, ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার বাবলুর রহমান এবং অ্যাওয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মুইদ হাসান। প্রতিনিধিদলটিকে অভ্যর্থনা জানান টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফরোজা শাহীন এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবদুল্লাহ হিল নাকিব।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলটি কারখানার মূল উৎপাদন ইউনিটের পাশাপাশি ছাদের ওপর স্থাপন করা সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প, শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের দোকান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে। উল্লেখ্য, ইউএসজিবিসির লিড প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত ফোরএ ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেড বিশ্বের প্রথম আউটারওয়্যার কারখানা হিসেবে জাতিসংঘের ‘ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি চার্টার ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন’-এ স্বাক্ষর করেছে।
পরিদর্শন শেষে ডাচ উপমন্ত্রী স্টিভেন কোলেট বলেন, বিশ্বব্যাপী পোশাক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দায়িত্বশীল উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখার ওপরই এই খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় ফোরএ ইয়ার্ন ডায়িংয়ের বিনিয়োগ প্রশংসনীয়।
টিম গ্রুপের এমডি আফরোজা শাহীন জানান, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও শ্রমিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাণিজ্যের নতুন রূপরেখা ও জ্বালানিসংকটের যুগে টেকসই উৎপাদনে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকবে। দেশীয় পোশাক শিল্পের এই অর্জন তুলে ধরতে পেরে তারা গর্বিত। আফরোজা শাহীন আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত নিয়মকানুন ও জ্বালানিসংকট আমাদের একই বার্তা দিচ্ছে—যেসব কারখানা আজ টেকসই উৎপাদনে বিনিয়োগ করছে, তারাই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।





