
রাজধানীর চকবাজারে অবস্থিত মনসুর খান প্লাজা মার্কেটের ছয় ও সাততলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভবনটির ছয়তলার ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদামের মধ্যে সাত থেকে আটটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এসব গুদামে ছাতা, প্রসাধনসামগ্রী ও আতরের মতো দাহ্য পণ্য ছিল। সাততলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও আগুনের তীব্রতা ও তাপে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশ। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে কোনো মানুষের বসবাসের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তাঁরা সফল হননি। গুদামের মালিকেরা তাঁদের ক্ষতির হিসাব জানাতে পারবেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলতে এখনো ছয়টি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানোর সময় ধোঁয়া বের হলে সেখানে পানি দেওয়া হচ্ছে, কারণ পুরোপুরি পানি না দেওয়া হলে মালামালের ভেতর থেকে আবার আগুন জ্বলে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। আগুন নেভানোর কাজে মোট ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মী অংশ নিয়েছেন। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরু রাস্তা ও পানির স্বল্পতার কারণে ফায়ার সার্ভিসকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। রিজার্ভের পানি বারবার শেষ হয়ে যাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘায়িত হয়েছে। আশপাশের মার্কেটগুলোয় আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুনে ভবনটি যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতি তার চেয়ে কম হয়েছে।
কাজী নজমুজ্জামান আরও জানান, গুদামের দরজাগুলোতে তালা ও কলাপসিবল গেট থাকায় আগুন নেভানোর আগে কর্মীদের অনেক সময় নিয়ে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল এবং ব্যবসায়ীরা তা ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আগুনের ব্যাপকতার কারণে তা কার্যকর হয়নি। এই অগ্নিকাণ্ডে ধোঁয়া ও গরমে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যাদের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আগুন নেভানোর কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, গুদামগুলোর দরজায় তালা লাগানো ছিল। কোনো কোনো দোকানে তিন থেকে চারটি তালার পাশাপাশি কলাপসিবল গেট ছিল। এ ছাড়া সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে সমস্যা হয়েছে। শুরু থেকেই আগুন যাতে সেসব মার্কেটে ছড়িয়ে না পড়ে, সে চেষ্টা করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ভবনটিতে বিদ্যুতের সংযোগ থাকায় শর্টসার্কিট থেকে সূত্রপাতের একটি আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানতে এখনো বেশ সময়ের প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। ভবনটির আশপাশে আরও তিনটি মার্কেট থাকায় সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় তা সফলভাবে রোধ করা সম্ভব হয়েছে।





