
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সংস্থা থেকে গোপনে বড় অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আইআরএস-এর করসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এফডব্লিউসি২০২৬’ থেকে তিনি অতিরিক্ত ১৭ লাখ ২০ হাজার ডলার নিয়েছেন। এই অর্থ তার ফিফা সভাপতি হিসেবে পাওয়া নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বাইরে ছিল। এর আগে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ও বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে তাঁর একটি পরিকল্পনা ঘিরেও সমালোচনা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
ফিফার ২০২৪ সালের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই বছর ইনফান্তিনো বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ প্রায় ৪২ লাখ ৭৪ হাজার সুইস ফ্রাঁ গ্রহণ করেছেন, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ। এই বিপুল পরিমাণ আয়ের বাইরেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে নেওয়া বাড়তি এই অর্থের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফিফার নিজস্ব সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সভাপতি, কাউন্সিলের সদস্য এবং মহাসচিবের পারিশ্রমিক নির্ধারণ এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। ফিফার সাবেক গভর্ন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান মিগেল মাদুরো ‘দ্য টাইমস’-কে জানিয়েছেন, ফিফার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সভাপতি অতিরিক্ত কোনো অর্থ নিলে এবং তা গোপন রাখলে সেটি স্পষ্টতই সংস্থার নিয়মনীতির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে। ফিফার সংবিধির ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সভাপতি, কাউন্সিলের সদস্য ও মহাসচিবের পারিশ্রমিক নির্ধারণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারিশ্রমিকের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হয়। ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের বিষয়টি।
তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ইএসপিএন-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, সংস্থাটি তাদের আর্থিক প্রতিবেদন জমার ক্ষেত্রে যাবতীয় নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে মেনে চলে। এছাড়া সংবিধান লঙ্ঘনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। সংবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।





