
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গ্রিসে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েল পদত্যাগ করেছেন। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পদত্যাগের পরপরই কিম্বারলি গিলফয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব শেষ হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলন এবং নিজের দেশের প্রতি তার ভালোবাসা অব্যাহত থাকবে। জাকারিয়ার নিয়োগের পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রেস ব্রিফিং, যা তুলনামূলকভাবে বেশ সংক্ষিপ্ত ছিল।
গিলফয়েলের এই বিদায়ের পেছনে কাজ করেছে গ্রিসের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হওয়া তীব্র বিতর্ক। গত সেপ্টেম্বরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে এথেন্সে এক নৈশভোজে গিলফয়েল গ্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রোমানিয়ার সরকারের পতনের বিষয়ে আলোচনার সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দেশের সরকার পরিবর্তন করতে সক্ষম এবং গ্রিসের ক্ষেত্রেও তা সম্ভব। এই মন্তব্যের পর গ্রিসের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিসের সরকারের কাছে ঘটনার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করে। জানা যায়, তৎকালীন গ্রিক জ্বালানিমন্ত্রী স্তাভরোস পাপাস্তাভরুও এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
গিলফয়েল অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার সততা ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার বিরুদ্ধে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার আইনজীবী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত কথোপকথনের ব্যাখ্যার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। বিতর্কের রেশ শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; গ্রিস ও বলকান অঞ্চলে মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানি বাড়াতে গিলফয়েলের ভূমিকা নিয়েও বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। বলেছেন, তার নাম, তার সুখ্যাতি ও সততাকে তিনি রক্ষার লড়াই করবেন।
তবে গ্রিক সরকার শুরু থেকেই এসব অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে আসছে। সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো প্রকার হুমকি দেয়া হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োরগোস গেরাপেত্রিতিস গিলফয়েলকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনা গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে মিৎসোতাকিস সরকারের সম্পর্কের নতুন এক সমীকরণ সামনে নিয়ে এসেছে। এলএনজি ব্যবসা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে গ্রিসের রাজনীতিতে বিতর্ক চললেও, গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সরকারের বক্তব্যের অমিলের কারণে প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। বিরোধী দলগুলোর প্রশ্ন, জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কতটা প্রভাব বিস্তার করছে গ্রিসের নীতিনির্ধারণে।





