২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূসকে হেনস্তা কেবল শুরু

Published: October 14, 2026, 12:42 pm

যুক্তরাষ্ট্রের জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। নিউ ইয়র্কের টাইম টেলিভিশনের এক টকশোতে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি সূচনা মাত্র এবং দেশের পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে এমন ঘটনা অব্যাহত থাকবে। তার মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মঙ্গলের কথা চিন্তা করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের পরিস্থিতির কোনো শেষ নেই।

ড. সিদ্দিকুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, এই ঘটনাটি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত বা নোবেল বিজয়ী পরিচয়ের জন্য ঘটেনি, বরং তার গত দুই বছরের কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস অসাংবিধানিকভাবে শাসনভার গ্রহণ এবং নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বিতর্কিত সরকার গঠন করেছেন। সিদ্দিকুর রহমানের দাবি, তার নির্দেশেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং গত জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, আওয়ামী লীগের প্রায় এক লাখ নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি রাখা এবং ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপের কারণেই সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা, আওয়ামী লীগের যারা অনুসারী, উনি যে কর্মকাণ্ডটি গত দু’বছর করেছেন, তার ফল হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ বা অভিনন্দন জানানোর মতো অবস্থা তিনি করেননি। তার নির্দেশে বাংলাদেশের যে বাড়িটাকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর, ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। তার সময়কালে এক লাখেরও বেশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। এই সেই ব্যক্তি (ড. ইউনূস), যে দলটির নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই দলটির কার্যক্রম তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা আরও বলেন, তারেক রহমান যখন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তখনও তিনি সতর্ক করেছিলেন যে সরকার বা রাজনৈতিক দলের প্রতি থাকা মানুষের তীব্র ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কারও নেই। তিনি জানান, তাদের দলের নেত্রীকে ফাঁসির আদেশ দেয়া, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং তোফায়েল আহমেদের মতো বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের জানাজা পড়ার সুযোগ না দেয়ার মতো ঘটনাগুলো নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর অভিমান ও আক্রোশের জন্ম দিয়েছে। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ড. ইউনূসের ওপর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের আইন মেনেই চলতে চান এবং ড. ইউনূসকে শারীরিক কোনো আঘাত করা হয়নি, বরং এটি ছিল এক ধরণের মানসিক চাপের বহিঃপ্রকাশ। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এই দেশটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে, তাদের সবারই একই পরিণতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে চলমান পরিস্থিতিতে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, যদি এভাবে দেশ চলতে থাকে, তবে এর শেষ কোথায় হবে তা কারো জানা নেই।

আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সিদ্দিকুর রহমান উল্টো পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি দাবি করেন, যাদের নির্দেশনায় জুলাই পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাদেরই বরং জবাবদিহি করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের মৃত্যুর জন্য একটি কমিশন গঠন করা প্রয়োজন এবং বারবার ক্ষমা চাওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম দলটিকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে না দেয়া হবে এবং কারাগার থেকে নেতৃবৃন্দ মুক্তি না পাবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা চলতেই থাকবে। ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং শান্তি বজায় রাখতে সব পক্ষকে নিয়ে একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।