৪ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে, মেয়ের অপেক্ষায় সুইটির পরিবার

Published: October 20, 2026, 6:11 pm

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা সুইটি আক্তার প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। দরিদ্র পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে বাবা ফজল মিয়া ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা খরচ করে মেয়েকে বিদেশে পাঠান। সুইটি পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট। যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস নিয়মিত বাড়িতে টাকা পাঠালেও, পরবর্তীতে ফোন করে জানান যে তিনি কারাগারে রয়েছেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’।

কারাগারে থাকা অবস্থায় সুইটি জানিয়েছিলেন, মক্কায় অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার জের ধরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। এর আগেও প্রায় এক বছর মেয়ের কোনো খোঁজ পাননি তার স্বজনরা। সর্বশেষ ১৫ দিন আগে জেল থেকে ফোন করে সুইটি আশ্বস্ত করেছিলেন যে, আর মাত্র দুই মাস পর তিনি ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরবেন। তবে এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই।

এদিকে সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে সুইটির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে তার পরিবার। স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা শুনলেও সরকারিভাবে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ের কী হয়েছে তা নিয়ে আমরা অন্ধকারে। সরকার যদি কোনো তথ্য দেয় তবে বিষয়টি পরিষ্কার হতো। জীবিত বা মৃত অবস্থায় আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই। এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় সুইটির মা জহুরা বেগম। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিস্কার করে কিছু জানি না। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না।

এ বিষয়ে স্থানীয় মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সুইটির বিষয়ে সরকারি কোনো পর্যায় থেকে তাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। পরিবারের সদস্যরা এখনো জানেন না ঠিক কী ঘটেছে এবং সত্যটা কী। বাবা ফজল মিয়া এখন শয্যাশায়ী আর মা দিনাতিপাত করছেন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন।