৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ নভেম্বর থেকে বাধ্যতামূলক খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স

Published: October 21, 2026, 3:19 pm

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশে খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের নির্দিষ্ট শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন এবং লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশের পর এখন ব্যবসায়ীদের এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ ও নতুন প্রবিধানমালা অনুযায়ী, ব্যবসার ধরনভেদে চারটি ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স নিতে হবে—ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধন। সব মিলিয়ে ১৬টি ভিন্ন শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনার জন্য নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ দোকান, রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান—সবাইকে এই নতুন নিয়মের আওতায় আসতে হবে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত ৪ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদন ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যসমূহের নিবন্ধন গ্রহণ।

প্রবিধান অনুযায়ী খাদ্য ব্যবসাকে মূলত দুই ভাগে দেখা হচ্ছে। প্রবিধানের তফশিলে খাদ্য ব্যবসাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৬ ধরনের সাধারণ প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট, তবে সুপার ফুড বা বিশেষ ধরনের পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক।

রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ফলের রস বিক্রেতা, ক্যাটারিং সেবা এবং প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারীদের নিবন্ধন করতে হবে। এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা বা পুরি বিক্রির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসাকেও এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে, শিশুদের ফর্মুলা দুধ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রি-বায়োটিক জাতীয় বিশেষায়িত খাদ্য প্রস্তুত বা আমদানিকারকদের জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স নেওয়া জরুরি করা হয়েছে। এছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন, বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (Fortified) খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও।

নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে কর্তৃপক্ষ ফরম ৫.১ (নিবন্ধনের জন্য) এবং ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ (লাইসেন্সের জন্য) নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট তফশিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে এখন থেকে বিএফএসএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ থাকা আবশ্যক, যাতে ক্রেতারা পণ্যের বৈধতা যাচাই ও অভিযোগ জানাতে পারেন।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে তিন বছর, যা পরবর্তীতে নবায়ন করতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ ক্যাটাগরির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমবার নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি নির্ধারিত হবে প্রতিষ্ঠানের ফ্লোর স্পেস বা আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার পর্যন্ত আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি হবে ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে লাইসেন্স ফি ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে স্থানীয় জেলা কার্যালয় থেকে আবেদন জমা দেওয়া গেলেও ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও সংরক্ষণে জবাবদিহি বাড়বে এবং ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন দাখিলের জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।