৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাঘাটায় অবৈধ কয়লা কারখানার ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ জনজীবন

Published: October 21, 2026, 3:51 pm

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পাচগড়গড়িয়া এলাকায় প্রশাসনের অনুমোদনহীন কয়লা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। কৃষি জমির মাঝখানে গড়ে তোলা এসব কারখানায় মোট ১৪টি চুল্লি বসিয়ে দিনরাত অবিরাম গাছ পোড়ানো হচ্ছে। এতে করে এলাকাটি সবসময় ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে, যা পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারখানাগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে গ্রামের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে ফসলি জমি ও আশেপাশের গাছপালা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পাচ গড়গড়িয়া গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে কারখানাগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘন্টা চুল্লির ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে ওই এলাকায়। ভালোভাবে জেনে নিয়ে প্রশাসনের নিকট জানানো হয়।’।

স্থানীয় বাসিন্দা মমিন মিয়া জানিয়েছেন, কারখানার ধোঁয়ার দাপটে গ্রামের ভেতর স্বাভাবিক চলাচল করাই এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাহিন মিয়া, মেহেরুল ইসলাম ও ফেলু মিয়াসহ কয়েকজন মিলে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব কারখানা পরিচালনা করছেন। তাদের প্রভাবের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। বরং ধোঁয়া নিয়ে কথা বললে সাধারণ মানুষকে উল্টো হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কামালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম অবৈধ এসব কয়লা কারখানার কার্যক্রমের কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন। কারখানার বিষয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের তথ্য এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে রয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত জানিয়েছেন, এর আগে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে কারখানাগুলো আবারও গড়ে তোলা হলে প্রশাসন পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। অবৈধভাবে ফসলি জমিতে কাঠ পোড়ানোর এই কারবার বন্ধে স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।