৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন সাবেক ছাত্রদল

Published: October 21, 2026, 10:17 pm

গাইবান্ধার সাঘাটায় আলোচিত দ্বৈত অপরাধের মামলায় কারাবন্দি সাবেক ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম বাবার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া এলাকায় বাবার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে নির্ধারিত সময় শেষে পুনরায় গাইবান্ধা জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

কারাগার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলামের বাবা শাহ আলম পরলোকগমন করার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে তাকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত তাকে তিন থেকে চার ঘণ্টার জন্য সাময়িক মুক্তির অনুমতি প্রদান করেন। অনুমতি পাওয়ার পর স্বজন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বাবার জানাজায় যোগ দেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হলে মানবিক বিবেচনায় তাকে অল্প সময়ের জন্য পরিবারের কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রসংগত, বোনারপাড়া এলাকায় আলোচিত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারি ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিনের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় রবিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনার শিকার সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গত ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে রবিউল ৪ নম্বর আসামি। হামলার পর অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২১ জুন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ভাই পলাশ, ওয়ার্ড বিএনপি সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল, ও জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

হামলাকারীরা প্রথমে সালাউদ্দিনকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। তাকে বাঁচাতে সাইফুল্লাহ এগিয়ে গেলে আসামিরা ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে নিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে এবং পালিয়ে যায়। ঘটনার দিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল্লাহ বারীর মৃত্যু হয়। আর গুরুতর আহত সালাউদ্দিন ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৮ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।