৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক

Published: October 22, 2026, 7:19 pm

সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের অবরুদ্ধ করা, হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ অবরোধে হামলার প্রতিবাদে এবং স্থানীয়দের ন্যায্য দাবির সমর্থনে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা এই অবরোধ ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৫টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে। তবে জরুরি সেবার আওতায় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী ও লাশবাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িগুলো এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের’ ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে আটকে পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাপী আটকা পড়েন সাজেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।

এর আগে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরের দিকে ফেরার পথে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার সময় সাজেক উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা তাদের পথরোধ করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে সাজেক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনার আগে অবরোধকারীদের এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ৬ সদস্য আহত হন। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের উপর অবরোধকারীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পর্যটক ও সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। তবে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।