
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে কোনো রাজনৈতিক দলই বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে ফিরে আসতে হলে তাদের জুলাই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা জুলাইকে স্বীকার করতে হবে। এখনো রাজনৈতিক ওই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়নি যেভাবে তিনি ভাবছেন। ওই জিনিসটা সাইকোলজিক্যালি (মানসিকভাবে) এখনো মানুষের মাথায় আছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ৫ কোটি যুবসমাজ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে আওয়ামী লীগের তৈরি পুরোনো রাজনৈতিক বয়ান বুঝিয়ে রাজপথে বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হবে। এই ৫ কোটি মানুষকে আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ (বয়ান) দিয়ে ফেরত আসাটা অনেক বড় মুশকিল হবে।
পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী জানান, তিনি রাজনীতিতে বা দেশে ফিরবেন কি না, তা ভবিষ্যৎ সময় নির্ধারণ করে দেবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে যে গণহত্যা, মানসিক আঘাত ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তা থেকে দেশের মানুষ এখনো পুরোপুরি বের হতে পারেনি। তবে বর্তমানে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায় অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসব উদযাপন করেছে। আমার ধারণা, এখনো বাংলাদেশ ২০২৪-এর যে হত্যা, ট্রমা ও অত্যাচার ওখান থেকে এখনো মানুষ বের হয়ে আসতে পারেনি। তারা যদি রাজনীতিতে আসতে চায়, তাহলে আরো কনস্ট্রাক্টিভ ওয়েতে (গঠনমূলক উপায়) চিন্তাভাবনা করতে হবে। তারপর বাংলাদেশের মানুষ যদি ফিল করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া বা না দেওয়া, সেটা সময় বলে দেবে। ওই ন্যারেটিভের ওপর ভিত্তি করেই তারা করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনের চিত্র তুলে ধরে পার্থ বলেন, সারা দেশে আনন্দ-উৎসবের মধ্যে হিন্দুরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেছে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, দলটি নতুন করে গণতন্ত্রের কথা বলে নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে বাংলাদেশে তাদের এভাবে ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যোগ করেন, গত ১৭ বছরে তারা দেশের যে ক্ষতি করেছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, তা পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। তারা সরাসরি আওয়ামী লীগের এই পতন বা আওয়ামী লীগের এই দেশ ছাড়ার মধ্যে, সরাসরি হোক বা ইনডাইরেক্টলি হোক তারা পার্টিসিপেট (অংশগ্রহণ) করেছে। তারা রাজপথে, ফেসবুকে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ছিল। তারা যে ১৭ বছর দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে ফিরে আসতে আমাদের সময় লাগছে।





