
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাত্র আট দিনের মাথায় বিশ্বব্যাপী ৬০০ কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক ছুঁয়েছে তামিল মেগাস্টার রজনীকান্তের নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’। গত ১৫ অক্টোবর পর্দা ওঠার পর থেকেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারসহ আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে চলেছে এই অ্যাকশনধর্মী ছবি। তখন বিশ্বব্যাপী মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০০ কোটি রুপি অতিক্রম করা। বক্স অফিসে সাফল্য পেলেও ‘জেলার ২’ নিয়ে সমালোচকদের মতামত একরকম নয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সপ্তাহ শেষে বিশ্বজুড়ে ছবিটির সর্বমোট আয় দাঁড়িয়েছিল ৫৭৬ কোটি ৪৫ লাখ রুপি। এর মধ্যে কেবল ভারতের বাজার থেকেই এসেছিল ৩৭১ কোটি ৪৫ লাখ রুপি (নেট আয় ৩১৭ কোটি রুপি)। আর বিদেশের বাজার থেকে সংগৃহীত হয় ২০৫ কোটি রুপি। অষ্টম দিনে ভারতে সংগৃহীত নতুন আয়ের ওপর ভর করে ছবিটি বিশ্বজুড়ে ৬০০ কোটি রুপির মাইলফলকে পৌঁছে যায়। অষ্টম দিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভারতের বাজারে এর আয় ছিল ৮ কোটি ৪৪ লাখ রুপি। পরিবারের ওপর বিপদ নেমে এলে অতীতের অপরাধজগতের সঙ্গে তাঁর সংঘাত শুরু হয়।
বক্স অফিসের আয়ের চিত্রে দেখা যায়, প্রথম দিনে ভারতে ৫৯ কোটি ৭০ লাখ রুপি দিয়ে খাতা খোলে ছবিটি। দ্বিতীয় দিনে আয় কমে দাঁড়ায় ৩৭ কোটি ১০ লাখ রুপিতে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যবসা একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়; চতুর্থ দিনে ভারতে নেট আয় হয় ৫৫ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। কর্মদিবসেও এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, যেখানে সোম ও মঙ্গলবার যথাক্রমে ৪২ কোটি ৩৫ লাখ এবং ৪৬ কোটি ৮০ লাখ রুপি আয় হয়। তবে সপ্তম দিনে এক ধাক্কায় ব্যবসা কমে ২৮ কোটি ১৫ লাখ রুপিতে নেমে আসে, যা ছিল প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ঘরোয়া বাজারে ছবিটির তামিল সংস্করণ সর্বাধিক ব্যবসা করলেও তেলুগু ও হিন্দি সংস্করণ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় এসেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী উপস্থিতিও ছবিটিকে বিশাল লক্ষ্যের দিকে নিয়ে গেছে। এর আগে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিরিজের প্রথম ছবি ‘জেলার’-ও বিশ্বব্যাপী ৬০০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করেছিল। সেই ছবিতে রজনীকান্ত অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষী ‘টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। নিজেকে এখনো বাস কন্ডাক্টর ভাবি: রজনীকান্ত।
নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই সিকুয়েলেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা গেছে রজনীকান্তকে। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন বিদ্যা বালান, মিঠুন চক্রবর্তী, এস জে সূর্য, রম্যা কৃষ্ণন, যোগী বাবু ও বিনায়কন। এছাড়া বিশেষ দুটি চরিত্রে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন মোহনলাল, শিবরাজকুমার এবং জ্যাকি শ্রফ। রজনীকান্তের তারকাখ্যাতি, অ্যাকশন, কমেডি ও অন্যান্য তারকাদের উপস্থিতি দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানলেও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। অনেকে অভিনেতার পর্দার উপস্থিতির প্রশংসা করলেও ছবির দীর্ঘ ব্যাপ্তি, দ্বিতীয় অংশের ধীরগতি ও অতিথিশিল্পীদের সংক্ষিপ্ত ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরিচিত চরিত্র, অ্যাকশন, হাস্যরস এবং তারকাদের উপস্থিতি ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। রজনীকান্তের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও বিপুল জনপ্রিয়তাও ছবিটির বাণিজ্যিক সাফল্যের বড় কারণ।





