
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে পিরোজপুরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গার্ড অব অনার প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর দেহাবশেষ বর্তমানে জেলা পুলিশ লাইনসে রাখা হয়েছে। মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে দীর্ঘ দুই মাস অসুস্থ থাকার পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে স্বজনেরা তাঁর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হন। পরে মরদেহ পুলিশ লাইনসে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তবে এই দাফন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় কিছু মানুষকে জড়ো হয়ে আপত্তি জানাতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক বলেন, কেউ যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সেজন্য তারা নজর রাখছেন। তিনি দাবি করেন, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা নন, তাই তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একজন মানুষের দাফন নিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত কোনো বাধা নেই।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, গার্ড অব অনার দেওয়ার পর মরদেহ এখনো পুলিশ লাইনসের সুরক্ষিত স্থানে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পিরোজপুরেই তাঁকে সমাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





