১২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্য নিয়ে বিব্রত সরকার, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রশাসন

Published: October 28, 2026, 12:11 am

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’ এমন মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আইজিপির এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টিতে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর শেষ করে দেশে ফেরার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান পৃথক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমের কাছে আইজিপির এই বক্তব্যকে ‘অসতর্কতাবশত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘উনি সহজ-সরল মানুষ, আইনের কঠোর প্রয়োগের কথা বলতে গিয়ে ভুল করে ফেলে থাকতে পারেন। তবে তার বক্তব্যটি মোটেও ঠিক হয়নি।’ মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারের নীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। তার দাবি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং বর্তমান সময়ে হেফাজতে মৃত্যুর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের সৎ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিলে অপরাধ দমন সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন। যদি স্লিপ অব টাং করে বলেন তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু এটা তো সরকারকে বিব্রত করার মতো অবস্থা।

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন ও পরিবর্তনের পর যখন মানুষ একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রত্যাশা করছে, তখন বাহিনীর প্রধানের মুখ থেকে ক্রসফায়ারের কথা শোনাটা অনভিপ্রেত। এটি সরকারকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সস্তা জনপ্রিয়তা বা ক্রেডিট পাওয়ার জন্য কোনো কথা বললে তা দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। অপরাধ দমনের নামে এ ধরনের মন্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। যে ১৭ বছর আমরা এই ক্রসফায়ার, গুম, গুপ্তহত্যা, রক্তঝরানো অমানবিক দুঃশাসন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিণতিতে ৫ই আগস্ট পেলাম। সবার প্রত্যাশা একটি মানবিক বাংলাদেশ- সেখানে একটি বাহিনীর প্রধান হয়ে আপনার মুখ দিয়ে এ ধরনের কথা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আইজিপির ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্য এবং সাংবাদিকদের নিয়ে তার অশোভন মন্তব্যের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর একটি বিবৃতি দিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে। আইজিপি তার কথার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছেন এবং বিভ্রান্তি কাটানোর চেষ্টা করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশপ্রধান এ ধরনের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন, তাই এই অহেতুক বিভ্রান্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উচিত নয়। এরপর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলেন।