
প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায় বর্তমান সরকার। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের নিউ ওয়াজনি হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপকারে আসে এমন সংস্কারগুলো বিএনপি যাতে করতে না পারে, সেজন্য একটি প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে সবার আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। এর জন্য ধৈর্য ও ঐক্যবদ্ধ কাজের কোনো বিকল্প নেই। আজকে দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে আমি একটা কথা বলব—আপনাদের মন থেকে সহযোগিতা যদি থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের এই বাংলাদেশকে, আমাদের কাঙ্ক্ষিত যে বাংলাদেশ—সেই বাংলাদেশে আমরা গড়ে তুলতে পারব। তবে আমাদেরকে এজন্য পরিশ্রম করতে হবে, আমাদেরকে এজন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে, আমাদেরকে এজন্য একসাথে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমান একটা ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা পেয়েছিলাম, আজ থেকে আট মাস আগে, যখন আমরা দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, আসুন, আমরা এখানে ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলেছি, ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য পলিসি স্ট্রাকচারে কী করা যেতে পারে। তারেক রহমান বলেন, আমরা কোনো একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশের সন্তানরা, দেশের মানুষেরা, মা-বোনেরা, নারীরা সুস্থ থাকবে। যখন ছোট ছিলাম, শুনতাম যে, ‘যেদিকে চোখ যায়, বাংলাদেশে সবুজ আর সবুজ’, শুনতাম না আমরা এরকম কথা।
জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বাধীনতার আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের নতুনভাবে আকৃষ্ট করতে আলাপ-আলোচনা চলছে। তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, বিনিয়োগকারীদের দেশে নিয়ে আসার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। প্রবাসীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ভূমিকা রাখলে জাপানি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। আপনারা যারা বিভিন্ন কর্মের মধ্যে আছেন, কেউ হয়তো শিক্ষকতা করছেন, কেউ হয়তো অন্য কোনো জবে আছেন। আবার অনেকে আছেন, যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত আছেন। অর্থাৎ, আপনি যদি আপনার দেশে কী কী সুবিধা তৈরি করা হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ করার জন্য, সেগুলো যদি আপনারা এ দেশের ব্যবসায়ী মহলের কাছে তুলে ধরেন, আপনার দেশকে এবং বর্তমান সরকার কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে বা আপনি কীভাবে আপনার দেশের ভালো জিনিসগুলো অন্যান্য জায়গায়ও। এর বাইরে আরও বহুবিধ সমস্যা দেশের মধ্যে ছিল এবং এখনো ক্ষেত্রবিশেষে আছে। তা এখন কথা যেটা হচ্ছে যে, যেমন ধরেন, এই যে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থাটাকে যদি ভালো করি, তাহলে আমাদের সন্তানরাই শিক্ষিত হবে, যারা আগামী দিনে দেশটাকে গড়ে তুলবে। আমরা জানি, বাংলাদেশের মানুষ কতটুকু, কেমন স্বাস্থ্যসুবিধা পাচ্ছে। তা এখন স্বাস্থ্যব্যবস্থা যদি উন্নতি করতে হয়, অর্থাৎ যেকোনো জিনিস ভালো হওয়া মানেই তো সেটা সংস্কার, এক ধরনের সংস্কারই তো সেটা।
বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় আট মাস আগে তারা ভঙ্গুর অর্থনীতি, নাজুক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলার মতো জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। এই বাধাগুলো পেরিয়েই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো যুবসমাজকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রশাসনের অবস্থাও খুব নাজুক ছিল, আইনশৃঙ্খলার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক ছিল।
সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সংস্কারের কথা বলা হলেও মানুষের কাছে এই মুহূর্তে জরুরি হলো জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বাচ্চাদের জন্য ট্রাফিক রুলের উপযোগী বই তৈরি করা এবং স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় সহজলভ্য করা বড় ধরনের সংস্কার। তিনি মনে করেন, মানুষের কাছে ক্ষমতার চেয়েও বড় চাওয়া হলো এই মৌলিক সুবিধাগুলো। টোকিওর মতো ঢাকা শহরকে পরিষ্কার ও সবুজ করে গড়ে তোলা এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার কাছে প্রধান সংস্কার মনে হয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, যে দুটি কথা বললাম, এই দুটি বোধহয় অনেকগুলো সংস্কারের মধ্যে এই মুহূর্তের জন্য জরুরি সংস্কার। সেটা ঢাকা শহর হোক বা ঢাকা শহরের বাইরে গেলে হয়তো একটু-আধটু, কিন্তু তারপরও সেভাবে সবুজ আর চোখে পড়ে না।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিল। আখতারুজ্জামান কিরন, ব্যবসায়ী নেতা কাজী সারওয়ার হাবিব (সিআইপি) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জাপান বিএনপির সভাপতি রেজী মীর, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মনি, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এস ইসলাম নান্নুসহ প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।





