২১ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ছায়ায় থেকেও নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় তৈরি করছেন ভ্যান্স

Published: November 6, 2026, 11:35 am

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, সেই প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে এসে রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, নেতৃত্বের উত্তরাধিকার এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ঘটনাটিকে কেবল ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ হিসেবে দেখলে পুরো রাজনৈতিক চিত্রটি বোঝা যাবে না। ভ্যান্স ট্রাম্পের বলয়ের ভেতরে থেকেই নিজের জন্য আলাদা একটি রাজনৈতিক বলয় নির্মাণের পথে হাঁটছেন কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করে ভ্যান্স যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তার রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফ মার্ক শর্টও বলেছেন, ভ্যান্সের এই বক্তব্য ট্রাম্পের কাছ থেকে ইচ্ছাকৃত দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত বহন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ফ্লোরিডার রাজনীতিক রন ডিস্যান্টিস, সিনেটর টেড ক্রুজ এবং জশ হাওলির মতো ব্যক্তিদের নামও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় আসতে পারে। এদের সবাইকে একই রাজনৈতিক ছাতার নিচে ধরে রাখা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা হবে। সুতরাং, ট্রাম্পের বলয় থেকে ভ্যান্স বেরিয়ে যাচ্ছেন—এ কথা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয় ও ভ্যান্সের প্রকাশ্য অবস্থান

২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য আসন বৃদ্ধি করেছে এবং প্রতিনিধি পরিষদেও রিপাবলিকানদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নির্বাচনের পর ৪ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে ভ্যান্স রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে চিহ্নিত করেন। এ বক্তব্য ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে। ট্রাম্প যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন, একই পরিস্থিতিতে পড়লে তিনি আবারও এমন সিদ্ধান্ত নিতেন। ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদনে এই মতপার্থক্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাবেক মেরিন সেনা। নির্বাচনের পর রুবিওর নীরবতাকেও প্রতিবেদনে আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়।

ভ্যান্সের বক্তব্য শুধু যুদ্ধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি, বরং দলীয় ক্ষতির হিসাবও সামনে এনেছে। তিনি আরো প্রশ্ন তোলেন, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিনিময়ে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কতটা যৌক্তিক ছিল। এখানে লক্ষণীয়, ভ্যান্স নিজেকে প্রশাসনের বাইরে দাঁড় করিয়ে সমালোচনা করেননি। তিনি প্রশাসনেরই ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কথা বলেছেন, অথচ নীতির জায়গায় নিজের ভিন্ন অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এই কৌশল তাকে ট্রাম্পের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সঙ্গী রাখার পাশাপাশি অসন্তুষ্ট ভোটারদের কাছেও বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করছে। তবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ট্রাম্পের শক্তিশালী ইসরাইলপন্থি সমর্থকগোষ্ঠীকে ক্ষুব্ধ না করে কীভাবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা যায়। ফলে এটি অভিবাসননীতি থেকে সরে আসা নয়; বরং নীতি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ।

ট্রাম্পের ছায়ায় থেকেও নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণ

ভ্যান্সের রাজনৈতিক কৌশল বুঝতে হলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরের বক্তব্যের পাশাপাশি গত দুই বছরের কর্মকাণ্ডও বিচার করা প্রয়োজন। ভ্যান্সের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক কৌশলের কয়েকটি দিক উঠে এসেছে। এর মধ্যে নিজস্ব অর্থসংগ্রহ ব্যবস্থা তৈরি, রিপাবলিকান পার্টির মূল সংগঠনগুলোতে নিজের ভিত্তি মজবুত করা এবং নিজস্ব নীতিগত অবস্থান তৈরি অন্যতম। ভ্যান্স রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির অর্থসংগ্রহবিষয়ক দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন। এই দায়িত্ব তাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রধান দাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিয়েছে।

ভ্যান্সের সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের যোগাযোগ রয়েছে। তবে প্রচলিত রিপাবলিকান অর্থদাতা ও রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রাহকদের সঙ্গেও তিনি সম্পর্ক জোরদার করছেন। ভ্যান্স শুধু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে চাইছেন না। তিনি এমন একটি রাজনৈতিক সমর্থনব্যবস্থা তৈরি করছেন, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয়ের বাইরেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। এই প্রস্তুতিকে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কি ভাঙনের দিকে যাচ্ছে। ট্রাম্পের বিরোধিতা করে দলের নেতৃত্ব অর্জন করতে গেলে ভ্যান্সকে এমন একটি সমর্থনভিত্তি তৈরি করতে হবে, যা বর্তমান বাস্তবতায় সহজ নয়।

১৭টি নির্বাচনী সমাবেশ ও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভ্যান্সের রাজনৈতিক তৎপরতা আরো দৃশ্যমান হয়। সেপ্টেম্বর মাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক সম্মেলনের পর থেকে তিনি ১৭টি নির্বাচনী সমাবেশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সফরগুলো তাকে শুধু রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেনি, বরং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালী দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগও দিয়েছে। ভ্যান্সের সমাবেশে অনেক সমর্থক তাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন। তাকে ঘিরে ‘৪৮’ সংখ্যাটিও আলোচনায় আসে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ভ্যান্স এমন অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকায় বেশি সময় দিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে। বিশেষ করে ওহাইও, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের মতো সুইং স্টেটগুলোতে তিনি নিবিড় জনসংযোগ চালিয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের তুলনায় ভ্যান্সের বক্তব্যের ধরনেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন, ভ্যান্স সেখানে অর্থনীতি ও মধ্যবিত্তের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে তুলনামূলক নীতিগত ব্যাখ্যা দেন। ভ্যান্স অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের তুলনায় অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য ও সংলাপমুখী রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছেন। তার উদ্দেশ্য হতে পারে শুধু ট্রাম্পের মূল সমর্থকগোষ্ঠী নয়, বরং অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থি ও অসন্তুষ্ট ভোটারদের কাছেও নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। রিপাবলিকানরা যদি মনে করে যে ভ্যান্স ট্রাম্পের নীতির অংশীদার হয়েও পরাজয়ের পর দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাহলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তৃতীয়ত, তিনি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন।

ইরান যুদ্ধ: আদর্শগত অবস্থান নাকি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস?

ভ্যান্সের সঙ্গে ট্রাম্পের মতপার্থক্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ইরান যুদ্ধ। ভ্যান্স দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপবিরোধী হিসেবে পরিচিত। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও তিনি অতীতের মতো অনির্দিষ্টকাল ধরে বিদেশে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিরোধিতা করে আসছেন। এখন নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তার অবস্থান অনেক বেশি স্পষ্ট। তিনি শুধু যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় নয়, নির্বাচনী মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ভ্যান্সের বক্তব্যকে তার ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রস্তুতির সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। দ্বিতীয়ত, জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন সাধারণ ভোটার।

এখানে রাজনৈতিক হিসাবটি আরও গভীর। ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে ভ্যান্স একই সঙ্গে তিনটি শ্রেণির ভোটারের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছাতে চাচ্ছেন—যুদ্ধবিরোধী কনজারভেটিভ ভোটার, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অসন্তুষ্ট রিপাবলিকান সমর্থক এবং ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতির সমালোচক স্বাধীন ভোটাররা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক লাখের বেশি ভোটারের ওপর পরিচালিত নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার ইরানে সামরিক অভিযানের বিষয়ে তাদের উদ্বেগ ও বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন। এই বিশাল জনমত ভ্যান্সের কৌশলের পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন জুগিয়েছে।

ইসরাইল ও অভিবাসন নীতিতে স্বাতন্ত্র্যের সুর

ভ্যান্সের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার আরেকটি ক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরাইলনীতি। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে গেলেও ভ্যান্স মার্কিন সামরিক সংস্থানের সরাসরি ব্যবহারের সীমা টেনে দেওয়ার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন। এ অবস্থানকে সরাসরি ইসরাইলবিরোধী নীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ, সামরিক ব্যয় এবং মার্কিন সেনাদের সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এই কৌশলের উদয় হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে এমন একটি অংশ রয়েছে, যারা ঐতিহ্যগতভাবে ইসরাইলের নিরাপত্তাকে সমর্থন করলেও বিদেশে সামরিক খরচ কমাতে চায়; ভ্যান্স মূলত তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

একইভাবে অভিবাসননীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন সুর দেখা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের পক্ষে থাকলেও ভ্যান্স শুধু সীমান্ত বন্ধের দাবিতে সীমাবদ্ধ নন। তিনি একইসঙ্গে অবৈধভাবে শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও অর্থনৈতিক জবাবদিহির প্রস্তাব তুলেছেন। এই পরিবর্তনের রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক। কঠোর অভিবাসননীতির সমর্থক রিপাবলিকান ভোটারদের ধরে রেখেও তিনি মধ্যপন্থি ভোটার ও শ্রমিক শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী অংশের কাছে নিজের নীতিকে গ্রহণযোগ্য করতে চাচ্ছেন। এসব সমাবেশের মাধ্যমে তিনি শুধু রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাননি, নিজের জাতীয় রাজনৈতিক পরিচিতিও বাড়িয়েছেন। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি বলেছেন, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। অর্থাৎ শুধু অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা না করে, তাদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া নিয়োগকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টি তিনি সামনে এনেছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ও ২০২৮ সালের সমীকরণ

ভ্যান্সের পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির এই চেষ্টার পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াও রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প ভ্যান্সের অবস্থানকে প্রকাশ্যে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান না করলেও নিজের গৃহীত যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে পুনঃসংজ্ঞায়িত করেছেন। তবে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য থাকলেও দুজনের সম্পর্কে চরম ভাঙন ধরেছে—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ভ্যান্সও ট্রাম্পের নেতৃত্বের সরাসরি বিরোধিতা করেননি, বরং প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় এককভাবে নিজের কাঁধে না নিয়ে নীতির ভিন্নতা ব্যাখ্যা করেছেন। ভ্যান্সের বক্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা এটিকে প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে প্রকাশ্য মতপার্থক্য হিসেবে দেখেছেন। এমনকি ভ্যান্সের বক্তব্যটি হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে আগাম প্রত্যাশিত ছিল না।

ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে দাতাদের কাছে ভ্যান্সের পক্ষে কথা বলেছেন বলে আগে খবর প্রকাশিত হলেও প্রকাশ্যে তাকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট পদে সমর্থনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকলে কিংবা রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে নতুন নেতৃত্বের দাবি জোরালো হলে নিজের স্বাধীন ও সমন্বিত অবস্থান কাজে লাগাতে পারবেন ভ্যান্স। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই পরাজয় ভ্যান্সের জন্য তাই একই সঙ্গে বড় একটি সংকট ও রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রার্থিতা, ট্রাম্পের শেষ মুহূর্তের সমর্থন এবং রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার নতুন সমীকরণই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ভ্যান্সের এই কৌশল কতটা সফল হয়। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাক্সিওস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য গার্ডিয়ান, এবিসি নিউজ, নিউজ এবং ওয়াশিংটন পোস্ট।