৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন তথ্য: সৌদি আরবের রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের

Published: September 20, 2026, 4:45 pm

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির লোহিত সাগর উপকূলের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র আরও জানান, বিশ, তায়েফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো শত্রুতামূলক অন্যান্য প্রচেষ্টাও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে, এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

হুথিদের দাবি ও পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপট

হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহইয়া আল-সারিয়া অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের চালানো হামলার জবাব হিসেবেই এসব পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। আল-সারিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনে প্রায় ৩০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের আকাশে একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুথিরা। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোকা ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তাদের ভাষায়, এই নৌ অবরোধ মূলত ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দর ও বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধের পাল্টা পদক্ষেপ।

সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয়

এএফপির প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শনিবার হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হুথিরা তাদের ৩১ জন যোদ্ধা এবং সরকারি বাহিনী ১৭ জন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক এই তীব্র সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৬ ছাড়িয়েছে বলে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদের বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, সতর্কসংকেত শোনার পর তারা একের পর এক বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনেছেন। এছাড়া এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, আরামকোর একটি পুড়ে যাওয়া জ্বালানি ট্যাংকের আগুন নেভানোর জন্য দমকলকর্মীদের ব্যাপক চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল করা হয়েছে। এদিকে, বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান শুক্রবার জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের কারণে তেলের দামের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হতে পারে, তা এখনই নির্ধারণ করা কঠিন।

  • রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়।
  • আরামকোর স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য পর্যবেক্ষণ।
  • বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে।
  • মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্ত।